জীবনের শেষ মুহুর্তে

জীবনের শেষ মুহুর্তে
No automatic alt text available.
জীবনের শেষ মুহুর্তে
------------------------------- 
আবু রায়হান বাইরূনী এমন এক উর্বর চিন্তাশীল ও লেখক ছিলেন যার কলম তার হাত ছাড়া হতনা বললেই চলে। তিনি আটাত্তর (৭৮) বছরের এক পরিপক্ক জীবন যাপন করেছিলেন এবং তার সারাজীবনে কখনো প্রয়োজনে লেখা-পড়া ও শিক্ষাদান থেকে অবসর গ্রহণ করেননি।

আবুল হাছান আলী ইবনে ঈছা বলেছেন- “আবু রায়হান যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত ছিলেন তখন আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। প্রবেশকালেই আমি বুঝতে পারি যে তিনি জীবনের শেষ প্রান্তে পৌছে গেছেন। তার যখন এ অবস্থা তখন তিনি আমাকে বললেন যে, শেষের বার আমরা যখন সাক্ষাৎ করেছিলাম তখন আমরা মীরাস নিয়ে আলোচনা করেছিলাম এবং আমি কিছু বলেছিলাম তা ভুল ছিল এখন তিনি তা বুঝতে পারছেন। তার জন্য আমার মায়া লাগল এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম তিনি যখন এতটা অসুস্থ তখন তার সাথে এমন (জটিল) এক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা ঠিক হবে কি-না।

তিনি উত্তর দিলেন, “আমি জানি যে, আমি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি, কিন্তু বিচার্য বিষয়ে অজ্ঞ থাকার চেয়ে সে বিষয়টাকে উপলব্ধি করা তুমি কি আমার জন্য ভালো মনে কর না। আমি তখন বিষয়টি পুনরায় বললাম আর তিনি তা আমার নিকট ব্যাখ্যা করতে লাগলেন। আমাদের কথা-বার্তা শেষ হলে পরে আমি চলে গেলাম আর জানতে পারলাম যে তিনি ইন্তেকাল পর্যন্ত (মানসিকভাবে) শক্ত থাকেন।”

আততায়ীর ছুরিকাঘাতে উমর (রাঃ)-এর যখন রক্তপাত হতে হতে মৃত্যুপ্রায় অবস্থা তখন তিনি তার সঙ্গী-সাথীদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তিনি সালাত সমাপ্ত করেছিলেন কি-না।

ইব্রাহীম ইবনুল জাররাহ বলেছেন- “(ইমাম) আবু ইউসুফ (রহঃ) অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তিনি একবার অজ্ঞান ও আরেকবার সজ্ঞান হতে ছিলেন। যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন তখন তিনি আমাকে ধর্মীয় কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলেন। যখন আমি তার প্রশ্নকে বিস্ময়ের সাথে গ্রহণ করলাম তখন তিনি তা লক্ষ্য করে বললেন, “তাতে কিছু আসে যায় না, আমরা এ বিষয়ে এজন্য গবেষণা করছি যে, এ বিষয়ের জ্ঞান বিস্মৃতির অতল গহ্বর থেকে মুক্তি পেয়ে চিরদিনের জন্য বেঁচে থাকুক, এমন কি এটা কারো (জীবন) রক্ষার কারণ হোক।”

আমাদের ধার্মীক পূর্বসূরীগণ এমনই ছিলেন। যখনই তাদের মনে পড়ত, এমনকি মৃত্যুশয্যায় শায়িত অবস্থাতেও তখনই তারা ইসলামী জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করতেন- হয়তো শিক্ষক হিসেবে নয়তো ছাত্র বেশে। তাদের অন্তরে জ্ঞান কতইনা মূল্যবান ছিল। জীবনের শেষ মুহুর্তে তারা পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদের কথা মনে করতেন না, তারা কেবল জ্ঞানের কথাই মনে করতেন। যে জ্ঞান তাদের জীবনের সাধনা ছিল। আল্লাহ্ তাদেরকে করুণা করুন।
==================================
সংগ্রহ ওয়েব সাইট বাংলা হাদিস। 
ইসলামি বইঃ লা-তাহযান ( হতাশ হবেন না) 
লেখকঃ ডাঃ আয়িদ আল করনী 
-------------------------------------------
আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক' 
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]